সিমলাপাল রাজবাড়ীর চাঁচর উৎসব।

সিমলাপালের পবিত্র কাহিনী:  

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও বলরামের বিগ্রহ স্থাপন 

শোনা যায়, সিমলাপালের রাজা ঐশ্বরিক নির্দেশে নিজের রাজপ্রাসাদের প্রাঙ্গণে ভগবান বলরামের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির নির্মাণের জন্য পাথর আনা হয়েছিল নিকটবর্তী জড়িষ্যা গ্রাম থেকে। কয়েক মাস পর রাজা জানতে পারেন যে ভগবান বলরাম একা অবস্থান করবেন না। সে কারণে রাজা ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে আসেন এবং তাঁকে বলরামের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকে এই মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণ ও বলরাম যুগলরূপে আরাধ্য হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন।  


 সিমলাপাল রাজবাড়ীর চাঁচর উৎসব।

আদর্শরাজধর্মঃ
রাজা ভগবানস্য দাসঃ, তস্য কার্যং প্রজানাং হিতসাধনম্।
ন রাজ্ঞঃ কর্তব্যং যথাতথা প্রকারেণ সিংহাসনে আরোহণম্।
ন রাজ্ঞঃ কর্তব্যং ছলেন বলেন স্বজনপোষণং স্বহিতসাধনম্।
রাজ্ঞঃ কর্তব্যং স্বং ভগবদ্ভৃত্যং মন্যমানস্য  প্রজানাং পালনম্।

চাঁচর উৎসব।

দোলের  আগের দিন রাত্রিতে  রাধা কৃষ্ণ  কে চৌদলের উপর চাপিয়ে  কোথাও কোথাও  আবার  কৃষ্ণ  এবং বলরাম কে   চৌদলের উপর চাপিয়ে ভক্তগনের  দ্বারা নাম সংকীর্তন করে  ভগবান কে নগর /গ্রাম ভ্রমণ করানোর উৎসব কে  চাঁচর উৎসব  বলা হয়। এই সময় ভগবান প্রত্যেক ভক্তের  ঘরের  সামনে উপস্থিত হন এবং এবং ভগবান কে নৈবিদ্য অর্পণ করা হয়।

ঈশ্বরঃ-ঈশ্বরীয়া লীলা
ন দৃষ্টো মে ঈশ্বরঃ, ন দৃষ্টা তস্য লীলা।
মনুষ্যরূপমেব দৃষ্টং ময়া, ন তস্য লীলা॥

এবং ব্রুবন্ অজ্ঞানী ঈশ্বরস্য করোতি অবহেলাম্।
জ্ঞানী ভক্তঃ তত্র আগত্য বিলোক্য দিব্যলীলাম্॥

শ্রীজগন্নাথ প্রণাম-মন্ত্রঃ  
শান্ত-সৌম্য-প্রসন্ন-বদনং পরং ব্রহ্ম মহাদ্যুতিম্ ।  
তমোऽরিং সর্ব-পাপ-ঘ্নং প্রণতোऽস্মি শ্রীজগন্নাথম্ ॥

শ্রীঅনন্তমাধব চতুর্ব্যূহ স্তুতি  
ওঁ শ্রী অনন্তমাধবায় নারায়ণায়  
বাসুদেবায় শংকৰ্ষণায় প্রদ্যুম্নায় অনিরুদ্ধায়  
পদ্মনাভায় পুরুষোত্তমায় বিষ্ণবে  নমঃ।

শ্রীবলভদ্র-প্রণাম-মন্ত্রঃ  
শান্ত-সৌম্য-প্রসন্ন-বদনং পরং ব্রহ্ম মহাদ্যুতিম্ ।  
তমোऽরিং সর্ব-পাপ-ঘ্নং প্রণতোऽস্মি শ্রীবলভদ্রং ॥
💧
শ্রীপরব্রহ্ম - স্তুতিঃ
ইদং জগতি ন দৃশ্যতে কশ্চিদ্ দেবং অসুরং নরং যক্ষम्।
যোऽসৃজাত্ জীবান্ স-সাগরং জলং বায়ুং ধরাং দিব্যম্।
সৃষ্টিং করোতি সমর্থং কেবলং শ্রীপরব্রহ্মপরমেশ্বরম্।
তস্য সহ সংলগ্নান্ তিষ্ঠন্তি তস্য অংশাবতারকলেবরম্॥

জগদেককারণপরব্রহ্মস্তোত্রम्
ইদং জগতি ন দৃশ্যতে কশ্চিদ্ দেবং অসুরং নরং যক্ষম্।
যোऽসৃজাত্ জীবান্ স-সাগরং জলং বায়ুং ধরাং দিব্যম্।
সৃষ্টিং করোতি সমর্থং শ্রীজগদীশ্বরং জগদেককারণং নিত্যম্।
তং শ্রীপরব্রহ্মপরমেশ্বরং বন্দে তদংশাবতারকলেবরম্॥
💧

পশ্চিম বঙ্গের  বাঁকুড়া  জেলার সিমলাপাল রাজবাড়ীর দোল উৎসবের ‘ট্র্যাডিশন’-ই ছিল দোলের আগের দু’দিন কৃষ্ণ-বলরামের চাঁচর  উৎসব । এই  দু’দিন ভক্তদের কাঁধে ভর করে চৌদলে চড়ে রাতে নগর পরিক্রমা করতেন কৃষ্ণ-বলরাম। রাতের আঁধার দূর করতে নগর পরিক্রমায় জ্বালানো হত হ্যাজাক লাইট । কাতারে কাতারে মানুষ সেই শোভা যাত্রায় থাকতেন। সেই খুশিতে দোলের দু’দিন আগে থেকেই বাতাসে নানা রঙের ফাগ উড়ে বেড়াত  সিমলাপালের আকাশে-বাতাসে।  বর্তমানে প্রায় দু’দশক হতে চলল সেই শোভাযাত্রা বন্ধ। নগর পরিক্রমার বদলে এখন রাজবাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরের আটচালা পর্যন্ত এই যাত্রা করিয়ে কোনও মতে প্রথাটাকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। 

পূর্বে  এই শোভাযাত্রাকে ঘিরে সিমলাপাল ও এবং সিমলাপালের পার্শ্ববর্তী জড়িষ্যা গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা কম ছিল না। সবাই নিজের নিজের  বাড়ির  সামনের  রাস্তা টি জল দিয়ে ঝাড়ু মেরে পরিষ্কার করতেন । গ্রামের প্রায় প্রতিটি  ঘরেই ইট-মাটি দিয়ে একটি বেদি গড়া হত ঠাকুরের জন্য। আলপনা এঁকে সাজানো হত বেদি। অনেকে বেদিতে ছড়িয়ে দিতেন আবির। রাস্তার এপার থেকে ওপার  টাঙানো হতো আম পল্লব। 

सच्चिदानन्दं परब्रह्म आद्याशक्तिं परेश्वरीम्।
 बलभद्रं च गोविन्दं नमामि पादपङ्कजम्॥
Krishna Balaram Kirtan

এই সাজ সাজ রবের মধ্যে চাঁচর উৎসব (ভগবানের  নগর /গ্রাম ভ্রমণ ) শুরু হত  সন্ধ্যার পরে। প্রথম দিন কৃষ্ণ-বলরাম কে  সিমলাপাল নগর পরিভ্রমণ করানো হত। পরের দিন কৃষ্ণ-বলরাম কে  নিয়ে যাওয়া  হতো  পাশের জড়িষ্যা  গ্রামে।  বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুজো নিতেন কৃষ্ণ-বলরাম। হরিধ্বনী দিয়ে ঠাকুরকে স্বাগত জানাতেন গৃহস্থ। ভগবানের এই যাত্রা উপলক্ষে সুন্দর একটি শোভাযাত্রা বের হত গ্রামের রাস্তায়, যার আগেভাগে থাকত হ্যাজাকের আলো, নাম সংকীর্তনের দল ,পরবর্তীকালে ব্যান্ডপার্টিও যুক্ত হয়েছিল এই শোভাযাত্রায়।

তবে চৌদল কাঁধে তোলার অধিকার ছিল শুধু  উৎকল ব্রাহ্মণদেরই। তবে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষই পা মেলাতেন শোভাযাত্রায়। বর্তমানে নগর পরিভ্রমণ ও বাড়ি বাড়ি যাওয়ার প্রথা বন্ধ  হয়ে গেছে। এখন  দোলের দিন নাম সংকীর্তন হয় । সাধারণ মানুষ ফাগ ছড়িয়ে দেন কৃষ্ণ-বলরামের গায়ে। মহাকালের নিয়ম অনুসারে যুগ এগিয়ে চলেছে পিছনে পড়ে রয়ে যাচ্ছে  অনেক কিছু ,সেগুলো আমাদের কাছে আজ শুধু স্মৃতি আর  নতুন প্রজন্মের  কাছে  ইতিহাস। এই কাহিনীতে লুকিয়ে  আরো একটি  ইতিহাস, সেটি হলো কৃষ্ণ বলরামের জড়িষ্যা গ্রামে আসার ইতিহাস।যার জন্য কৃষ্ণ বলরামের জড়িষ্যা গ্রামে আগমন হয়েছিল, তিনি আজ স্বর্গবাসী,আজ তিনি ও  এক ইতিহাস।

 
💧

ঈশ্বরস্য সমীপে জীবপ্ৰার্থনা ।  
(মুক্তছন্দঃ)  
শক্তিপ্ৰার্থনা:

ইত্থং শক্তিং প্রদেহি শ্রীনাথ,
মা নঃ শ্রদ্ধা ক্ষণমপি ক্ষীয়তাম্।
সত্পথে নয় জীব্নপন্থানং,
মা নঃ স্খলনং ভবতু কিঞ্চন॥

জ্ঞানপ্ৰার্থনা:

অজ্ঞানতিমিরং পূর্ণং নাশয় ,
জ্ঞানদীপপ্রভয়া বিভাসয় ।
পাপমার্গাত্ সদা রক্ষ নঃ,
কল্যাণীং জীব্নবিধিং প্রয়চ্ছ॥

সদ্ভাব প্ৰার্থনা:

নাস্তু বৈরং কস্যচিদপি,
নাস্তু প্ৰতিশোধভাবনা মনসি।
ন চিন্তয়েম বয়ং  স্বলাভকম্,
সদা স্মরামঃ কৃতমৰ্পণম্॥

করুণাপ্রার্থনা:  

আনন্দপুষ্পাণি বয়ং বিতরাম,  
সর্বেষাং জীবনমেতু মধু বনম্।  
করুণাজলধারয়া জগন্নাথ,  
পাবয় সর্বং মনসঃ কোনকম্॥

লোক দুঃখনিবারণ প্ৰার্থনা: 
 
দুঃখময়ং সর্বতোऽয়ং জগত্,  
ত্রস্তমানসো জনঃ কম্পিতঃ।  
পাপভারো বর্ধতে নিত্যশঃ,  
কথং ধরা ধৃতবতী প্রভো॥  

মমতাপ্ৰার্থনা:

মমতয়া ভগবন্ ভারমেতং
উদ্ধর ত্বং করুণাসিন্ধো।
মা লুপ্ত্যতাং তব  সৃষ্টিরিয়ম্,
শান্তিৰ্লোকে ভবতু স্থিরা ॥

আত্মশুদ্ধিপ্ৰার্থনা:

স্বকৃতং ফলমশ্নুয়াম বয়ং ,
মৃত্যোরপি নঃ ভয়ং  মা অস্তু।
অতীতদুঃখং ন পুনর্ভবেত্,
ভবিষ্যৎ কল্যাণময়ং কুরু নাথ॥

অন্তিম ধ্রুব পদঃ

ইত্থং শক্তিং প্রদেহি শ্রীনাথ,
মা নঃ শ্রদ্ধা ক্ষণমপি ক্ষীয়তাম্।
সত্পথে নয়  জীব্নপন্থানং,
মা নঃ স্খলনং ভবতু কিঞ্চন॥

नाहं ज्ञानी न च विद्वान् ।
मम सर्वं श्रीजगन्नाथस्य दानम्॥

প্রবীর  ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের  উৎকল ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  প্রবীরের  বইগুলি Amazon.com. flipkart.com, abebooks.com এর মাধ্যমে বিক্রি হয়। গুগল ও অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন থেকে সার্চ করে এখনো পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি লোক  প্রবীরের লেখা আর্টিকেল গুলি পড়েছেন।

Popular posts from this blog

আকাশ মহান্তী- একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সফটওয়্যার ডেভেলপার,ইনভেন্টর এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সি এবং মেশিন লার্নিং এর ছাত্র।

Simlapal royal family's Chanchar Festival

সিমলাপালের ইতিহাস এবং গড় পঞ্চকোটের রাজাদের ইতিহাস ।